শুক্রবার, ০৪ এপ্রিল ২০২৫, ০৭:০০ পূর্বাহ্ন

প্রধান পৃষ্ঠপোষকঃ মোহাম্মদ রফিকুল আমীন
উপদেষ্টা সম্পাদকঃ জহির উদ্দিন স্বপন
সম্পাদক মণ্ডলীর সভাপতিঃ এস. সরফুদ্দিন আহমেদ সান্টু
প্রধান সম্পাদকঃ লায়ন এস দিদার সরদার
সম্পাদকঃ কাজী মোঃ জাহাঙ্গীর
যুগ্ম সম্পাদকঃ মাসুদ রানা পলাশ
সহকারী সম্পাদকঃ লায়ন এসএম জুলফিকার
সংবাদ শিরোনাম :
কোন অন্যায়কে প্রশ্রয় দেননি বলেই বেগম জিয়া ‘একজন আপোষহীন নেত্রী’-আবু নাসের মো: রহমাতুল্লাহ আন্তর্জাতিক সাংবাদিক আইনি প্রতিকার ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে এক জাঁকজমকপূর্ণ ইফতার দোয়া মাহফিল রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকান্ডে প্রশংসিত বরিশাল উত্তর জেলা নারী নেত্রী বাহাদুর সাজেদা বরিশালে সাংগঠনিক সফরে আসছেন জাতীয় নাগরিক কমিটির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব ডা: মাহমুদা মিতু দুই দিনের সফরে আজ বরিশাল আসছেন অতিথি গ্রুপ অব কোম্পানির এমডি লায়ন সাইফুল ইসলাম সোহেল  পিরোজপুর ভান্ডারিয়ার যুব মহিলা লীগ নেত্রী জুথি গ্রেফতার গৌরনদীতে তিন দফা দাবি আদায়ে ছাত্রদলের বিক্ষোভ মিছিল উপজেলা প্রশাসনকে ১৫ দিনের আল্টিমেটাম গ্রেনেড হামলার মামলা থেকে তারেক রহমানসহ বিএনপি নেতারা খালাস পাওয়ায় গৌরনদীতে আনন্দ মিছিল বরিশালের বাকেরগঞ্জসহ চারটি থানা এবং উপজেলায় নাগরিক কমিটি গঠন   আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনা বিহীন বাংলাদেশ শান্তিতে থাকবে, এটা অনেকেরই ভালো লাগেনা-এম. জহির উদ্দিন স্বপন
‘সখী, ভাবনা কাহারে বলে’

‘সখী, ভাবনা কাহারে বলে’

রবীন্দ্রনাথের একটি গানের কলি দিয়ে আজ লেখাটা শুরু করছি। ‘সখী, ভাবনা কাহারে বলে’। আমাদের আজকের ভাবনা করোনাকবলিত পৃথিবীর বর্তমান ও ভবিষ্যৎ নিয়ে। লন্ডনের এক অর্থনীতিবিদকে বলা হয়েছিল করোনা-পরবর্তী বিশ্ব অর্থনীতি নিয়ে কিছু বলতে।

তিনি বলেছেন, প্রথমে করোনা থেকে বাঁচি। তারপর ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তা করব। তবু অনেক অর্থনীতিবিদ ও রাজনীতিবিদ বিশ্বের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবছেন। তাদের ভাবনার কথা প্রকাশ করছেন। তাদের মধ্যে আমাদের দেশের অর্থনীতিবিদ রেহমান সোবহানও রয়েছেন।

করোনা সংকট শেষে যে ভয়ানক অর্থনৈতিক মন্দা আসছে, এ সম্পর্কে সবাই একমত। কিন্তু এই মন্দাকে বিশ্বের জাতিগুলোর সবাই একজোট হয়ে কীভাবে রুখবে, তার চিন্তাভাবনায় সবাই পথের দিশা এখনও খুঁজে পাননি।

ইউরোপের অর্থনৈতিক সংকটে আমেরিকা এবার দ্বিতীয় মার্শাল প্ল্যানের দ্বারা সাহায্য জোগাতে এগিয়ে আসতে চাইবে অথবা পারবে কি না তাতে সন্দেহ রয়েছে। মার্কিন অর্থনীতিই এখন সংকটের মুখে। তার ওপর ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘আইসোলানিস্ট’ নীতি আমেরিকাকে একঘরে করে ফেলছে।

ইউরোপের জন্য যদি দ্বিতীয় মার্শাল প্ল্যান করা না যায়, তাহলে এশিয়া ও আফ্রিকায় করোনা-উত্তর অর্থনীতি পুনর্গঠনে আমেরিকা কতটা এগিয়ে আসে, তা দেখার রইল। ইউরোপে মার্কিন ডলারের যেমন প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠতে চাইছে ‘ইউরো’, তেমনি এশিয়া ও আফ্রিকা দুই মহাদেশেই ডলারকে হটাতে চাইছে চায়নিজ ইয়েন।

এ সত্যটি ডোনাল্ড ট্রাম্পও জানেন। আগামী প্রেসিডেন্সিয়াল নির্বাচনে তিনি যদি নির্বাচিত না হন, তাহলে নির্বাচিত নতুন ডেমোক্র্যাট প্রেসিডেন্ট হয়তো আফ্রো-এশিয়ার ব্যাপারে চীনের সঙ্গে কলাবরেশন নীতি গ্রহণ করতে পারেন। বিশ্ব অর্থনীতির ভবিষ্যৎও আমেরিকার আগামী নভেম্বরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ওপরেও অনেকটা নির্ভর করছে।

মুশকিল হচ্ছে এই, করোনা পরিস্থিতির ওঠানামার জন্য বিশ্বের অর্থনীতিবিদরা এর ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ সম্পর্কে স্থির সিদ্ধান্তে পৌঁছতে পারছেন না। ইউরোপে করোনা পরিস্থিতির উন্নতি দেখা দিয়েছিল। ব্রিটেনসহ অনেক দেশেই লকডাউন শিথিল করা হয়েছে।

দোকানপাট, পার্ক, রেস্টুরেন্ট খুলে দেয়া হয়েছে। নিউজিল্যান্ড, জার্মানি, অস্ট্রিয়া, স্পেন এমনকি ইতালি, স্পেনও প্রায় করোনামুক্ত দেশ হতে চলেছিল। চারদিকেই একটা আশার আলো দেখা দিতে চলেছিল করোনার গ্রাস থেকে মুক্তি পাওয়ার।

প্রকৃতি বিজ্ঞানীরা সতর্কবাণী উচ্চারণ করেছিলেন, আগামী ডিসেম্বরে কোভিড-১৯-এর দ্বিতীয় ধাক্কা (Second wave) আসছে। তাতে মানুষ মরবে ৫ লাখের মতো। এ সতর্কবাণীকে সঠিক প্রমাণ করে চলতি জুলাই মাসেই ইউরোপে করোনার দ্বিতীয় ধাক্কার আভাস পাওয়া যাচ্ছে।

২৩ জুলাইয়ের খবরে বলা হয়েছে, স্পেন ইউরোপের সব দেশকে সতর্ক করে দিয়েছে করোনার দ্বিতীয় ধাক্কা শুরু হওয়া সম্পর্কে। স্পেন, ফ্রান্স, জার্মানি, বেলজিয়াম ও স্পেনে এ ভাইরাসের দ্বারা আক্রান্ত নতুন রোগী পাওয়া গেছে। অস্ট্রেলিয়াতেও তাই। স্পেনের হেলথ অথরিটি তাই সব দেশকে ভাইরাস প্রতিরোধক ব্যবস্থা কঠোরভাবে মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছে।

বাংলাদেশ ও ভারতের দিকে তাকালেই এশিয়ায় করোনা পরিস্থিতি এখনও কত ভয়ানক তা বোঝা যাবে। তার ওপর ভাইরাসটির সেকেন্ড ওয়েভ বা দ্বিতীয় ধাক্কা এলে তো কথাই নেই। এশিয়া ও আফ্রিকাতে অর্থনৈতিক মন্দা সাইক্লোনের রূপ নেবে।

এই সাইক্লোন ঠেকানোর জন্য চীন অথবা আমেরিকাকে সাহায্য নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে, সে প্রশ্নটি এখনই উঠেছে। বাংলাদেশের রেহমান সোবহান সম্প্রতি ঢাকার একটি দৈনিককে দেয়া তার সাক্ষাৎকারেও এটি সংক্ষেপে আলোচনা করেছেন।

বিশ্বব্যাপী করোনা সংকটের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে চীনও। চীন ও আমেরিকার মধ্যে ঠাণ্ডা যুদ্ধের ঝড়ো হাওয়া বইছে। এ ঠাণ্ডা যুদ্ধ যে কোনো সময় গরম যুদ্ধে পরিণত হতে পারে। চীন সরকার তাদের দেশে একটি মার্কিন কনস্যুলেট অবিলম্বে (সম্ভবত ৭২ ঘণ্টার মধ্যে) বন্ধ করে দেয়ার নির্দেশ দিয়েছে।

এই কনস্যুলেট দক্ষিণ-পশ্চিম চীনের সিচুয়ান প্রদেশের চেংদু শহরে অবস্থিত। অবশ্য এই কনস্যুলেট বন্ধ করার প্রোভোকেশনটি দিয়েছে মার্কিন সরকারই প্রথম। চলতি সপ্তাহের গোড়াতেই ট্রাম্প অ্যাডমিনিস্ট্রেশন আমেরিকার টেক্সাস রাজ্যের হিউসটোনে অবস্থিত চীনের কনস্যুলেট ৭২ ঘণ্টার মধ্যে বন্ধ করার নির্দেশ দেন।

পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে চীন সরকার চেংদুয়ের মার্কিন কনস্যুলেট বন্ধ করে দিয়েছে। সন্দেহ নেই, ডোনাল্ড ট্রাম্প এই ভয়াবহ করোনা পরিস্থিতিতেও নভেম্বর নির্বাচনে জেতার জন্য চীনের সঙ্গে ঠাণ্ডা যুদ্ধে গরম হাওয়া লাগাতে চাইছেন।

আমরা যারা বাংলাদেশ সরকারকে দোষ দেই- তারা করোনার সংক্রমণ ঠেকাতে পারছেন না, তারা একবার ইউরোপের যেসব দেশ করোনাকে তাড়িয়েছিল, সেসব দেশে করোনার নতুন হামলার হিসাবটা দেখুন। ২৫ জুলাই শনিবারের ‘গার্ডিয়ান’ থেকে আংশিক একটা হিসাব দিচ্ছি।

ফ্রান্সে গত বৃহস্পতিবার ৮১৫ জন নতুন আক্রান্ত রোগীর সন্ধান পাওয়া গেছে। স্পেনে ৭৭ জন। ইতালি ও জার্মানিতেও তাই। সব দেশ কঠোরভাবে স্বাস্থ্যবিধি আবার আরোপের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

করোনার এই নতুন হামলার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ট্রাম্পের যুদ্ধ হুংকার। আমার ধারণা, ট্রাম্প যতই হুংকার দিন, চীনের বিরুদ্ধে প্রকৃত যুদ্ধে নামবেন না। চরিত্রগতভাবে তিনি ধূর্ত এবং কাওয়ার্ড। চীনের সঙ্গে ট্রেড ওয়ারে থেকেই তিনি বুঝেছিলেন, তিনি চীনের প্রেসিডেন্টের মতো কৌশলী এবং ধৈর্যশীল নন। চীনের সঙ্গে যুদ্ধে নামলে পঞ্চাশের দশকে কোরিয়া যুদ্ধে মার্কিন সেনাপতি জেনারেল ম্যাক আর্থারের যে অবস্থা হয়েছিল, সেই অবস্থা হবে তার।

ট্রাম্প চীনের বিরুদ্ধে যতই গর্জন করুন, আমেরিকা এখন চীনের বিরুদ্ধে সশস্ত্র যুদ্ধে নামবে না। সামর্থ্য ও সাহস দুই-ই তার কম। তবে চীন-আমেরিকা রাজনৈতিক স্নায়ুযুদ্ধ এবং অর্থনৈতিক যুদ্ধ চলবে। করোনাদুর্গত বিশ্বে, বিশেষ করে এশিয়ান দেশগুলোয় এবং ভারত মহাসাগরের দেশগুলোয় সামরিক ও অর্থনৈতিক সাহায্য প্রদানে চীন এগিয়ে আসবে।

একটি প্রমাণ, বাংলাদেশে করোনার প্রাদুর্ভাব দমনে চীনই প্রথম সাহায্যদানে এগিয়ে এসেছে। এমনকি ভারতকেও সাহায্যদানে পিছপা থাকেনি।

রাজনৈতিক বিরোধ থাকা সত্ত্বেও চীন ও ভারতের অর্থনৈতিক সম্পর্ক ভালো। চীন এখন এই সম্পর্ক আরও ভালো করার চেষ্টা করবে। আমেরিকার সমস্যা হল, আগামী নভেম্বরে দেশটির প্রেসিডেন্সিয়াল নির্বাচন।

ট্রাম্প যদি আবার নির্বাচিত হন, তার অ্যাডমিনিস্ট্রেশন নতুনভাবে গুছিয়ে উঠতে সময় লাগবে। তারপর চীনের সঙ্গে ওবামা আমলের মতো কলাবরেশন এই নীতিনির্ধারণেও সময় লাগবে। সুতরাং এশিয়ার রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তারের ক্ষেত্রে চীন এখন এগিয়ে আছে। ভবিষ্যতেও হয়তো থাকবে।

প্রায় এ কথাই বলেছেন সম্প্রতি ঢাকার একটি দৈনিককে দেয়া সাক্ষাৎকারে বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ রেহমান সোবহান।

তিনি শেখ হাসিনার সরকারের প্রশংসা করেছেন এবং বলেছেন চীন ও ভারতের মতো দুটি দেশকে প্রতিবেশী হিসেবে পাওয়ায় বাংলাদেশের বর্তমান অবস্থানও ভালো। তিনি মনে করেন, বিশ্ব পুঁজির উৎস স্থান বদলাবে। তা আর উত্তর আমেরিকা ও উত্তর আটলান্টিক অঞ্চলে থাকবে না। তা এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকায় চলে আসবে।

তিনি চীনকে ‘বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ’ এবং ভারতকে বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম দেশ আখ্যা দিয়েছেন এবং এদের মিলনে একটি এশীয় অর্থনৈতিক কমিউনিটি গড়ে উঠবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। অবশ্যই বাংলাদেশের উচিত হবে এই কমিউনিটির সঙ্গে যুক্ত থাকা।

রেহমান সোবহানের এই আশাবাদে আমিও যুক্ত থাকতে চাই। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, আমরা আগামী পৃথিবীর যে রূপরেখার স্বপ্ন দেখছি, বাস্তবের সঙ্গে তার সঙ্গতি না-ও থাকতে পারে। ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন গঠিত হয়েছিল ইউরোপের সমষ্টিগত রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বার্থকে কেন্দ্র করে।

এমনকি তারা ইউরোপের জন্য ইয়োরো কমন কারেন্সিও প্রবর্তন করেছিল। কিন্তু অর্থনৈতিক স্বার্থ বন্ধ এবং মার্কিন উসকানিতে এই ইউনিয়ন অটুট থাকতে পারেনি। ব্রিটেন বেরিয়ে এসেছে।

চীনের বর্তমান অর্থনৈতিক শ্রেষ্ঠত্ব এবং ভারতের সঙ্গে অর্থনৈতিক সহযোগিতা থাকা সত্ত্বেও যতদিন সীমান্ত এলাকা নিয়ে চীন ও ভারতের সামরিক ও অর্থনৈতিক বিরোধ না মিটবে এবং ভারতের সঙ্গে পাকিস্তানের কাশ্মীর বিরোধের শান্তিপূর্ণ সুরাহা না হবে, ততদিন একটি কার্যকর এশিয়ান অর্থনৈতিক কমিউনিটি বা রাজনৈতিক ইউনিয়ন গড়ে তোলা দুঃসাধ্য হবে।

যদি গড়েও ওঠে তার অবস্থা হবে সার্কের মতো। নিজেদের মধ্যে বিভিন্ন স্বার্থগত বিরোধ এবং তাতে ক্রমাগত মার্কিন উসকানিতে সেই কমিউনিটি বা ইউনিয়ন কতটা ঐক্যবদ্ধ থাকবে তা সন্দেহের বিষয়।

বিশ্বের সেরা অর্থনৈতিক শক্তি হয়েও করোনা-পরবর্তী বিশ্বে চীন গ্লোবাল ক্যাপিটালিজমের নেতা হয়ে উঠতে পারবে না। পশ্চিমা ক্যাপিটালিস্ট দেশগুলো তাতে বাধা দিতে থাকবে।

কারণ চীনের অর্থনীতি এখন পুঁজিবাদী ও খোলাবাজারভিত্তিক হলেও তার রাজনৈতিক ব্যবস্থা কমিউনিজমভিত্তিক হওয়াতে তথাকথিত ফ্রিওয়ার্ল্ড তাকে শত্রু ভাববে। এশিয়ার দেশগুলো চীনের সাহায্য গ্রহণ করবে। কিন্তু তার রাষ্ট্রব্যবস্থার প্রভাব সম্পর্কে সতর্ক থাকবে।

চীনের সামনে আরও একটি বড় বিপদ আছে। চীনের মানুষ পশ্চিমা টেকনোলজিতে ব্যাপকভাবে শিক্ষিত হচ্ছে এবং পশ্চিমা ডেমোক্রেসির অনুরক্ত হয়ে উঠছে। চীনে রাষ্ট্র এখন পুঁজিবাদকে নিয়ন্ত্রণ করছে। এটা বেশিদিন সম্ভব হবে না। এটা হবে পোষা বাঘকে কপাল চাটতে দেয়ার মতো।

রক্তের স্বাদ পেলে পোষা বাঘও মনিবকে হত্যা করে। চীনে পুঁজিবাদ এখনও পোষা বাঘ। রক্তের স্বাদ পায়নি। রক্তের স্বাদ পেলেই অর্থাৎ তার শক্তি আরও বাড়লেই পুঁজিবাদই রাষ্ট্রকে নিয়ন্ত্রণ করতে চাইবে।

তখন একনায়কত্ববাদী শাসন ভেঙে পড়বে। আজ হোক কাল হোক, ঘটনাটি ঘটবেই। আর সেই আশায় ডোনাল্ড ট্রাম্পের আমেরিকা ঘাপটি মেরে বসে আছে। এবং চীনের ভেতরে হংকংয়ে গণতন্ত্রের দাবির ছদ্মাবরণে তার ষড়যন্ত্র অব্যাহত রয়েছে।

রেহমান সোবহান সাহেবরা অর্থাৎ আমাদের ‘সুশীল সমাজটি’ গ্লোবাল ক্যাপিটালিজমের পতন ও চূড়ান্ত পরাজয় চান কিনা জানি না। কিন্তু গ্লোবাল ক্যাপিটালিজমের চূড়ান্ত পরাজয় ছাড়া বিশ্বের বর্তমান অর্থনৈতিক পুঁজি ব্যবস্থায় কোনো বড় রকমের পরিবর্তন ঘটানো যাবে না।

যদি আটলান্টিক থেকে প্রশান্ত মহাসাগর এলাকায় বিশ্বের পুঁজির উৎস স্থানান্তরিতও হয়, তাতে আধিপত্যে ভাগ থাকবে ইউরোপ-আমেরিকার বড় বড় কর্পোরেটগুলোর। মাল্টিন্যাশনালিজম নামের এই প্রভুত্ব অব্যাহত থাকবে।

চীনা পুঁজিবাদ এই কর্পোরেট শক্তির হয় প্রতিযোগী অথবা সহযোগী হবে। কিন্তু পুঁজিবাদের শোষণ ও শাসন উচ্ছেদ করতে পারবে না। করোনা-পরবর্তী বিশ্বে দৃশ্যগোচর সামাজিক পরিবর্তন ঘটবে। কিন্তু অর্থনৈতিক পরিবর্তনের জন্য আমাদের একটি রাজনৈতিক বিপ্লবের অপেক্ষা করতে হবে। সেটা কবে হবে জানি না।

আমার বিশ্বাস, বর্তমান করোনা সংকটও আমেরিকা-চীনের মধ্যে পুঁজিবাদী স্বার্থ সংঘাতের ফল। দুটি বৃহৎ দেশের কোনো একটির জীবাণুসংক্রান্ত গবেষণাগার থেকে এই বিষাক্ত ভাইরাস বিশ্বময় ছড়িয়েছে। বিশ্বে আধিপত্য প্রতিষ্ঠায় এটম বোমার মতো এই করোনাভাইরাস থেকে জীবাণু অস্ত্র বানানোর প্রতিযোগিতায় আজ বিশ্বব্যাপী এই করোনা ত্রাস।

এই সত্যও একদিন বেরিয়ে আসবে। রেহমান সোবহানের মতো লিবারেল অর্থনীতিবিদরা কি এশিয়ান ফ্রেমওয়ার্কে ক্যাপিটালিজমের হেডকোয়ার্টার স্থানান্তরের কথা ভাবছেন? যদি তা ঘটেও, তাতে এশিয়ায় মানুষের কোনো ভাগ্য পরিবর্তন হবে না। ক্যাপিটালিজমের ধর্ম শোষণ এবং শাসন। সে কোনো জাত-ধর্ম মানে না। চীনা পুঁজিবাদেরও পশ্চিমা পুঁজিবাদের চরিত্র থাকবে।

করোনাভাইরাসে হাজার হাজার মানুষ মরছে এবং মরবে। দু-চারজন বড় পুঁজিবাদীও মারা যাবেন। তাতে পুঁজিবাদের মৃত্যু হবে না। নতুন খোলসে তার আবির্ভাব হতে পারে। সেটা এশিয়ান খোলসেও হতে পারে। তাতে এশিয়ার মানুষের লাভ হবে না। স্বাধীনতার নামে আমরা তো শাসন বদলেছি। দেশি শাসক পেয়েছি। তাতে কোনো লাভ হয়েছে কি?

করোনাভাইরাসের সঙ্গে গ্লোবাল ক্যাপিটালিজমের বিরুদ্ধেও বিশ্বের সব মানুষকে একাট্টা হয়ে লড়াই করতে হবে। নইলে মানবতার পরিত্রাণ নেই। করোনার ভ্যাকসিন বেরোলেও এই মৃত্যুর মিছিল সহজে অথবা সহসা রোধ করা যাবে না।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন..



Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved © 2017-2024 Dokhinerkhobor.Com
Desing & Developed BY ThemesBazar.Com